হতাশ হবেন না

হতাশা – তিন অক্ষরের এই শব্দটি খুব সম্ভবত পুরো পৃথিবীর সর্বোচ্চ সংখ্যক মানুষের নিত্যসঙ্গী।

পড়াশোনায় ভালো করতে পারছিনাহতাশা

ভালো কোনো চাকরি খুঁজে পাচ্ছি না – হতাশা

জীবনটাই বৃথা! – হতাশা

তো, আজকে আমরা মূলত এই হতাশা নামক ব্যাধির পোস্টমর্টেম করব। চলুন, শুরু করা যাক হতাশ হয়ে পড়ার কিছু সাধারণ কারণ নিয়ে।

বিঃদ্রঃ এই পোস্টটি কোনোমতেই আপনাকে হতাশ না হতে শিখাবে না, বরং চেষ্টা করবে সেই হতাশার অবস্থা থেকে কীভাবে ভালো কিছু করে দেখাতে হয়।

কারণসমূহঃ
১. কোনো কাজে ব্যর্থ হওয়াঃ

আপনি কিছু একটা করতে গিয়েছেন, সেটা যাই হোক না কেন, আপনার কাছে গুরুত্বপূর্ণ এবং করাটা দরকার, কিন্তু করতে পারছেন না, পারলেন না। আপনার মন বিষিয়ে উঠল। দূর!!! ফালতু। একটা কাজও করতে পারলাম না ঠিকমতো।

এই যে, এটাই হতাশা।

২. কোনো কিছু না পাওয়াঃ

ধরা যাক, আপনি অনেক আশা করে একটি লটারির টিকেট কিনলেন। ১০ টাকার এই লটারির সর্বোচ্চ প্রাইজমানি ৫ লক্ষ টাকা। আশা নিয়ে বসেই থাকলেন, এবং, যেদিন ফলাফল দিল ড্র-এর, আপনি মুখটা ভোঁতা করে বিজয়ীর দাঁত কেলানো হাসি দেখতে লাগলেন।

এই যে, এটাই হতাশা।

মূলত, অক্ষমতাই হতাশার জন্ম দেয়।

এই অক্ষমতাকে কীভাবে আপনার ক্ষমতাতে পাল্টাবেন, তা নিয়ে একটু জেনে নিন।

টমাস আলভা এডিসন – উনি যখন নিজের বৈদ্যুতিক বাল্ব আবিষ্কার করতে গিয়েছিলেন, ১০,০০০ বার তাঁকে ব্যর্থ হতে হয়েছে, এবং প্রতিবার তিনি ব্যর্থ হওয়ার পর নিজেকে সামলে নিয়েছেন এবং আবার পুরোদমে কাজ করেছেন। কীভাবে সম্ভব? এটা নিয়ে জিজ্ঞাসা করা হলে তিনি বলেন,

“আমি ১০,০০০ বার ব্যর্থ হইনি, শুধুমাত্র ১০,০০০টা এমন উপায় বের করেছি যা কাজ করেনা”

এবার মন দিয়ে পড়ুন।
যখনই কোনো কাজে ব্যর্থ হবেন, মনে রাখবেন, আপনি সেই কাজটি করার লক্ষ্যে অন্তত ১ কদম এগিয়েছেন, আপনি এখন জানেন যে অমুক ভাবে করলে কাজটা হবে না। তাই তখন কাজটি করা আরেকটু সহজ হয়ে গেল। এরপরের বার, আবার চেষ্টা করুন, আবার ফেইল? সমস্যা নেই। ২ কদম এগিয়ে গিয়েছেন আলহামদুলিল্লাহ্‌! এবার তমুক ভাবে চেষ্টা করে দেখুন, নাহয় চমুক ভাবে, লমুক ভাবে, ইত্যাদি যতভাবে পারা যায়।
আপনি সফল না হয়ে কি আমি হব?

ব্যাপারটাকে অন্যভাবেও দেখা যায়। নিজেকে বুঝাতে শিখুন, নিজের মনকে কন্ট্রোল করতে শিখুন, এই জিনিসটি ধর্মীয়ভাবে অনেকটাই সম্পৃক্ত, তাই ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকে বলছি, যারা সেক্যুলারভাবে দেখতে চান, দেখতে পারবেন সেইভাবেও।

ইসলাম ধর্মে হতাশ না হওয়া নিয়ে অনেক ফলপ্রসু আলোচনা রয়েছে। এবার আসুন একটু ইসলামিকভাবে হতাশা জিনিসটাকে দেখি।

লা তাহযান! – হতাশ হবেন না!

“আকাশসমূহ ও পৃথিবীতে যা কিছু আছে সবই তার কাছে সাহায্য প্রার্থনা করে। প্রতি মুহূর্তে তিনি কাজে রত ।”

(৫৫-সূরা আর রাহমান : আয়াত-২৯)

(যেমন কাউকে সম্মান দান করা, কাউকে অপমানিত করা, নবসৃষ্টির মাধ্যমে কাউকে জীবন দান করা, কাউকেবা মৃত্যু দান করা ইত্যাদি কাজে রত)।

  • যখন বিক্ষুব্ধ ঝঞ্ঝা বায়ুতে সমুদ্র উত্তাল-তরঙ্গায়িত থাকে, তখন নৌকার আরোহীগণ আর্তনাদ করে বলে, “হে আল্লাহ!”
  • যখন মরভূমিতে উট চালক ও কাফেলা পথ হারিয়ে ফেলে তখন তারা আর্তচিৎকার করে বলে, “হে আল্লাহ!”
  • যখন বিপর্যয় ও দুর্যোগ দেখা দেয় তখন দুর্দশাগ্রস্তরা বলে উঠে, “হে আল্লাহ!”
  • দরজা দিয়ে যখন কেউ প্রবেশ করতে চায় আর তার সামনেই দরজা বন্ধ করে দেয়৷ হয় এবং অভাবীদের সামনে যখন বাধার প্রাচীর নির্মাণ করা হয় তখন তারা চিৎকার দিয়ে বলে, “হে আল্লাহ!”
  • যখন সকল পরিকল্পানা ব্যর্থ হয়, সকল আশা ভঙ্গ হয়ে যায় এবং পথ সংকীর্ণ হয়ে যায় তখন ডাক পড়ে, “হে আল্লাহ!”
  • বিশাল, বিশ্তীর্ণ ও প্রশস্ত হওয়া সত্ত্বেও পৃথিবী যখন আপনার কাছে সংকীর্ণ মনে হয়, নিজেকে সংকুচিত ভাবতে পরিস্থিতি বাধ্য করে তখন আপনি ডাক দিয়ে বলুন, “হে আল্লাহ!”

তিনিই তো আমাদের সৃষ্টি করেছেন, তার কাছেই তো আমাদের সকল আর্জি, চাওয়া পাওয়া। তাঁকে ডাক দিন না একবার! একবার ডাকার মতো করে ডেকে তো দেখুন, জীবন পালটে যাবে ইনশাআল্লাহ্‌।

সকলে ভালো থাকবেন। যদি আপনাদের মত থাকে, তবে এই সাইটে হতাশা থেকে মুক্তির জন্যে ইসলামিক উপায়সমূহ বাতলে দিতে থাকব কুরআন এবং সুন্নাহ এর আদলে।

আল্লাহ হাফেজ!

আর্টিকেলটি লিখেছেনঃ মোহাম্মদ আশফাক ফয়সাল

২ thoughts on “হতাশ হবেন না”

Leave a Comment

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।